দেশে এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ডিলারদের দাবি, সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-এর সময় এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলায় কড়াকড়ি ও বৈষম্যমূলক অনুমোদনের কারণে আমদানি ব্যাহত হয়। এর ফলেই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে এখনো তার প্রভাব বাজারে রয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পছন্দের কিছু প্রতিষ্ঠানকে এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে রাখা হয়। এতে গুটিকয়েক আমদানিকারকের হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়।

 

বর্তমানে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১,৩৪১ টাকা হলেও বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলার অনুমতি দিলে আমদানি দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা যাবে।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, এলসি সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংকট কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক সাকিব আহমেদ জানান, দেশে এলপিজির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি ও বাজারজাত করা হলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছায়। তবে পরের বছর আমদানি নেমে আসে প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টনে।

তিনি আরও জানান, এলসি জটিলতায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে না পারায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানি থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনে বাজারে সরবরাহ করতে হয়েছে, এতে লাভ কমেছে এবং চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ডিলার বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বেক্সিমকো এলপি গ্যাসের মার্কেটিং প্রধান হাসানুল বারি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১০০ শতাংশ ঋণ মার্জিন আরোপের ফলে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সরবরাহ কমে যায়। তবে সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহসভাপতি ও এনার্জি-প্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ জানান, দেশে মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আমদানি চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও একাধিক প্রতিষ্ঠান এলসি খুলতে না পারায় ২২টি কোম্পানি আমদানি করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। মার্চ মাসেও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩৪১ টাকা। লোয়াব ও বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন।

ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলসি জটিলতা দ্রুত সমাধান করে আমদানি স্বাভাবিক করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস কিনতে পারবেন। অন্যথায় শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : বার্তা২৪.কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here