News Times BD

মার্কিন বিমান বাহিনী ২০০টি বি-২১ বোমারু বিমান তৈরি করছে

প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মার্কিন বিমান বাহিনী তাদের বহরে বি-২১ রেইডার স্টেলথ বোমারু বিমানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। 

বর্তমানে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান উৎপাদনের গতি বাড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নর্থরোপ গ্রুম্যান। ক্যালিফোর্নিয়ার প্ল্যান্ট ৪২-এ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই সংখ্যা ২০০-তে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

 

২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুমোদিত ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ আইনি প্যাকেজের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মার্কিন বাহিনীতে বোমারু বিমানের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, এই বিশাল বহর তৈরির মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বি-২১ রেইডার কেবল প্রথাগত বোমারু বিমান নয়, বরং এটি আকাশে একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিমানটি ড্রোন ঝাঁককে দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। অর্থাৎ, ককপিট থেকেই পাইলট শত্রুঘাঁটিতে নজরদারি চালানো বা ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করার মতো জটিল কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর উন্নত সেন্সর এবং কম্পিউটিং ক্ষমতা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া যুদ্ধকালীন তথ্য বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তা অন্যান্য যুদ্ধবিমান বা নৌজাহাজে পৌঁছে দিতে পারে। রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি, যা একে আগের যেকোনো সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি অদৃশ্য ও কার্যকর করে তুলেছে।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এই বিমানের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে পরবর্তীতে যেকোনো নতুন প্রযুক্তি বা অস্ত্র সহজেই এতে যুক্ত করা যায়। এটি বর্তমানে বি-৬১ পারমাণবিক বোমার আধুনিক সংস্করণ এবং দূরপাল্লার এলআরএসও ক্রুজ মিসাইল বহন করতে সক্ষম। 

মূলত চীন ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এই বিশাল বিমান বহরকে মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ১০০টি বিমানের লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট নয়, বরং ২০০টি বিমানের এই শক্তিশালী বহরই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 সূত্র: নাইনিন ফোরটি ফাইভ

Exit mobile version