যুদ্ধ শুরু করার জন্য দায়বদ্ধ খ্রিষ্টান রাজনৈতিক নেতাদের আত্মজিজ্ঞাসা ও পাপ স্বীকারের (কনফেশন) আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। ভ্যাটিকানে এক অনুষ্ঠানে সমবেত যাজক ও পুরোহিতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা সশস্ত্র সংঘাতের মতো গুরুতর বিষয়ের জন্য দায়ী, তাদের কি নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর মতো সাহস ও বিনয় আছে?
পোপ সরাসরি কোনো দেশ বা নেতার নাম উল্লেখ না করলেও তার এই বক্তব্যকে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পোপ লিও বারবার মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার এই আহ্বানের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নীতিনির্ধারক ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রবীণ কার্ডিনাল ও ক্যাথলিক নেতা ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। ওয়াশিংটনের কার্ডিনাল রবার্ট ম্যাকএলরয় সাফ জানিয়েছেন, এই হামলা ক্যাথলিক শিক্ষার ‘জাস্ট ওয়ার’ বা ন্যায়যুদ্ধে নৈতিক মানদণ্ড পূরণ করে না। এ ছাড়া শিকাগোর কার্ডিনাল ব্লেস কাপিচ হোয়াইট হাউসের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের তীব্র নিন্দা করে একে ‘ঘৃণ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন, যেখানে যুদ্ধের ফুটেজকে অ্যাকশন সিনেমার মতো উপস্থাপন করা হয়েছিল।
পোপের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযানকে ‘ঈশ্বরের সমর্থনপুষ্ট’ বলে দাবি করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে খ্রিষ্টান নেতাদের প্রার্থনা করার দৃশ্য সামনে এসেছে।
ভ্যাটিকান নীতি অনুযায়ী, পোপ সাধারণত সরাসরি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন না, তবে তার আজকের এই নীতিনির্ধারণী বার্তা যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে খ্রিষ্টান বিশ্বে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
