হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ার দিয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শাসন ব্যবস্থাকে কোনো সাফল্য ছাড়াই এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে।
কুদস ফোর্সের কমান্ডার বলেছেন, প্রতিরোধের সমন্বিত ফ্রন্টের এই অঞ্চল জুড়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর উপস্থিতি রয়েছে এবং এটি মানবতার শত্রুদের জন্য অপেক্ষা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শাসকদের মনে রাখা উচিত কীভাবে তারা বীরত্বপূর্ণ ইয়েমেন, বাব-এল-মানদেব এবং লোহিত সাগর থেকে খালি হাতে পালিয়েছিল। এখনও তারাও কোনো সাফল্য ছাড়াই এই অঞ্চল ছেড়ে যাবে।
আইআরজিসি জেনারেলের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী সচল করতে মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুধু ইরানের বন্দরে চলাচল করা জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যেসব আন্তর্জাতিক জাহাজ ইরানে আসা যাওয়া করছে না, তারা প্রণালীটি অবাধে চলাচল করতে পারবে।
তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জোহরে খারাজমি বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এর আঞ্চলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাবে।
তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, এই দেশের জনগণকে কীভাবে আচরণ করবে কিংবা কোন কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে তা বেছে নেওয়ার মতো অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।
তিনি আরও বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে বন্ধু ও শত্রুদের সঙ্গে সমান আচরণ করা হয় না। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি, ইরাকি এবং কিছু চীনা ও ফরাসি জাহাজের যাতায়াতের উদাহরণ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
খারাজমি বলেন, যারা ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ও চুক্তিতে আসছে, তারা অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
মার্কিন অবরোধের পরিণতি সম্পর্কে খারাজমি বলেন: যখন আপনি হরমুজ প্রণালীর কথা বলেন, তখন আপনি সার, হিলিয়াম এবং আরও অনেক উপকরণের কথা বলছেন। একটি অবরোধ বিশ্বজুড়ে পুরো শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা, তাসনিম নিউজ এজন্সি।




