News Times BD

যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরানের, স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল সামরিক তৎপরতা

সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ চলতে থাকায় বসে নেই তেহরানও- স্যাটেলাইট চিত্রে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

দেখা গেছে, দেশটি তার পারমাণবিক স্থাপনা আরও সুরক্ষিত করছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্গঠন করছে এবং সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজাচ্ছে। শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

 

এদিকে, যুদ্ধের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরান গত কয়েক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানঘাঁটিগুলো মেরামতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচিকে করা হচ্ছে আরও গোপন ও সুরক্ষিত।

গত বছরের জুনে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশবিশেষ ধ্বংস হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হন। টানা ১২ দিনের ওই সংঘাতে পাল্টা আক্রমণ হিসেবে ইরান ইসরায়েলের শহরগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রও তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন করছে। জানুয়ারির ৫ তারিখে খোররামাবাদের ইমাম আলী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া এক ডজন স্থাপনার মধ্যে তিনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, বাকি একটির মেরামত হয়েছে এবং আরও তিনটি নির্মাণাধীন। এই স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাইলো উৎক্ষেপণ স্থান রয়েছে, যার চারপাশে নির্মাণ কাজের দৃশ্য দেখা গেছে।

আরও দুটি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক মেরামত করেছে ইরান। মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ বিমানঘাঁটি ও শহরের উত্তরে অবস্থিত আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও মেরামত করেছে তেহরান। পশ্চিম ইরানের হামাদান বিমানঘাঁটিতে রানওয়ের বোমার গর্ত ভরাট করা হয়েছে এবং সংস্কার করা হয়েছে বিমান রাখার জায়গাগুলো। খুলে দেয়া হয়েছে টানেলগুলো।

ইরান দ্রুত পুনর্গঠন করেছে শাহরুদে অবস্থিত তার সবচেয়ে বড় ও আধুনিক কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রটিও, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়ায়।

সিএনএন বিশ্লেষণ এবং জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজ (সিএনএস) এর গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার বলেন, ‘আমি মনে করি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল শাহরুদ। সেখানে যে ক্ষতি হয়েছিল তা খুব দ্রুত মেরামত করা হয়েছে যুদ্ধের সময় সেখানে একটি নতুন উৎপাদন লাইনও নির্মাণাধীন ছিল যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং এখন সম্ভবত সেটি কার্যকর। এর অর্থ- প্রতি-অনুভূতিশীলভাবে কঠিন প্রোপেল্যান্ট ক্ষেপণাস্ত্র মোটর উৎপাদন এখন যুদ্ধের আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।’

পারমাণবিক স্থাপনা আরও সুরক্ষিত
পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে নমনীয়তার কথা বললেও, ইরান বাস্তবে একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা আরও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত করছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাতাঞ্জের কাছে পিকঅ্যাক্স পর্বতের নিচে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সের টানেল প্রবেশপথগুলো কংক্রিট ও প্রচুর পরিমাণে মাটি দিয়ে শক্ত করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য বিমান হামলা প্রতিহত করা যায়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি উচ্চ-রেজ্যুলেশন স্যাটেলাইট চিত্রে এসব বিষয়গুলো উঠে আসে।

স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা গেছে, তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘তালেগান–২’ নামের একটি স্থাপনায় কংক্রিটের আবরণ সম্পন্ন করে সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শিগগিরই প্রায় অচেনা বাংকারে পরিণত হতে পারে।

Exit mobile version