মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইরানের জনজীবন। রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা এখন গভীর হতাশা আর চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করার পর শহরটির পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় নাগরিকদের ভাষ্যমতে, প্রতিটি রাত কাটছে ভয়াবহ আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মাঝে। তেহরানের এক ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা তার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন যে, গত কয়েক দিন ধরে তাদের মনে হচ্ছে তারা এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অন্ধকার। তিনি বর্তমান অবস্থাকে একইসঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর এবং চরম হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নাগরিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, প্রতি রাতে হামলার তীব্রতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ ইরানিদের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতি দিচ্ছে। তবে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কেউ কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মতে, মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও জীবন থেমে থাকে না। দুশ্চিন্তায় ঘরে বসে থাকার চেয়ে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়াকেই তারা বেঁচে থাকার লড়াই হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে ৩০ বছর বয়সী এক নারী জানিয়েছেন যে, রাতের বেলা শহরজুড়ে বোমার বিকট শব্দ শোনা যায়, যা অত্যন্ত ভীতিকর। বিদেশে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী এই সংঘাতকে সমর্থন করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি একটি চরম ভুল এবং অর্থহীন ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে, ক্রমাগত বোমাবর্ষণের নিচে এই মানবেতর জীবন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
