ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার করতে হচ্ছে। উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরান হাজার হাজার ওয়ানওয়ে (একমুখী) অ্যাটাক ড্রোন মোতায়েন করছে। এই বিশাল সংখ্যার সব কটি ঠেকানো সম্ভব নয়।

এ যুদ্ধে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

 

ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১৯ দফায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা করছে দেশটির নৌবাহিনী। এসব হামলায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অসম যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে গতকাল পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ঠেকানোর পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নেই মার্কিন বাহিনীর। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল পর্যন্ত ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গতকালও তারা মধ্যপ্রাচের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত এসব মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর ওপর গতকালও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গতকালও কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় কাতার। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী সফলভাবে আমেরিকান তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

বিশাল ক্ষতি চাপে ট্রাম্প

ইরানের সব ড্রোন ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই : মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরান হাজার হাজার ওয়ানওয়ে (একমুখী) অ্যাটাক ড্রোন মোতায়েন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত করার সক্ষমতা আছে ঠিকই। তবে এই বিশাল সংখ্যার সব কটি ঠেকানো সম্ভব নয়। মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের তিনি জানান, এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব ইরানের ড্রোন এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো (লঞ্চ সাইট) ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার : ইরানের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। হামলার প্রথম দিনেই আঘাতপ্রাপ্ত হয় কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি। যার মূল্য অন্তত ১.১ বিলিয়ন ডলার।

কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত গুলি ছোড়ার ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ স্ট্রাইকিং ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যার মূল্য অন্তত ২৮২ মিলিয়ন ডলার। ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। টার্মিনালগুলোর স্থাপন ও মোতায়েন ব্যয়সহ প্রতিটির মূল্য আনুমানিক ২০ মিলিয়ন ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুয়াইস শিল্পনগরীতে মোতায়েন করা থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।

পাল্টা আঘাত ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না : রান কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা আঘাত ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ইরানের শ্রদ্ধাশীল অবস্থানের কথাও জানান তিনি। এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, হামলার আগে ইরানকে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তেহরান প্রত্যাখ্যান করায় অভিযান চালানো হয় দেশটিতে।

আট সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে ইরান যুদ্ধ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। ইরান মার্কিন সামরিক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারবে না ও তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েল এক এক্স পোস্টে বলা হয়, ফোনালাপে আরাগচি বলেছেন, শত্রুদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী থামবে না। যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছে, কেবল সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করে।

যুদ্ধজাহাজ ডোবানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ফল ভোগ করতে হবে : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফল যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে। এক্স পোস্টে আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল।

চলুন, এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ করি : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এখনই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে ওমানে আটকে পড়া সব বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফিরতে সহায়তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে তার দেশের সরকার। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলুন, এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ করি।

ইরান নিয়ে বিভক্ত ইউরোপ : ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও কটূক্তির জবাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেডরো শানসেজ। ভাষণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন। সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স।

শানসেজ প্রায় ২০ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, সেই যুদ্ধ মানবতার জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। বরং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শরণার্থী সংকট বেড়েছে এবং উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে। হামলার প্রকৃত লক্ষ্য কী সেটিও স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের সমস্যা সামলাতে ব্যর্থ, তারা যুদ্ধের ধোঁয়া ব্যবহার করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে। এতে লাভবান হয় কেবল অল্প কয়েকজন, যারা অস্ত্র তৈরি ও যুদ্ধের বাজার থেকে মুনাফা করে।

এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, স্পেন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান দেশ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দেন। এদিকে মার্কিন সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে স্পেনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কারণ, স্পেনের মোট রপ্তানির মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে শুল্ক বাড়ানো হলে ইউরোপের নির্দিষ্ট পণ্য যেমন ওয়াইন বা অলিভ অয়েলে প্রভাব পড়তে পারে। এতে শুধু স্পেন নয়, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্পেন আশা করছে, বাণিজ্যনীতি যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পাশে দাঁড়াবে। তবে স্পেন জার্মানির ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস বলেন, ট্রাম্প যখন স্পেনের সমালোচনা করেন তখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্স ট্রাম্পের পাশে বসে ছিলেন, কিন্তু তিনি স্পেনকে নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেননি। কেন তিনি তা করেননি তা তাঁর বোধগম্য নয়। আলবারেস স্মরণ করেন, এর আগের জার্মান চ্যান্সেলররা ইউরোপীয় সংহতির পক্ষে ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঐক্যের অভাব স্পষ্ট বলে মনে করছে মাদ্রিদ।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব সময়ের মিত্র দেশগুলোর বেশির ভাগের অবস্থান ইউরোপে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্যিক দরকষাকষি নিয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও, ইরান আক্রমণ প্রশ্নে তারা আবার এককাট্টা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়ে ইরান আক্রমণে সম্মতি দিয়েছে ইউরোপের প্রায় সব দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাজ্য এ আক্রমণের সঙ্গে এখনো পুরোপুরি যুক্ত হয়নি। প্রথম দিকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে সরাসরি অসম্মতি জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বলেছেন, আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে তিনি বিশ্বাসী নন। ফলে ইরান আক্রমণে তার বাহিনী বা ঘাঁটি কিছুতেই ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। ইরান আক্রমণ করার আগে এর আইনসম্মত ভিত্তি কতটুকু, তা ভেবে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার খাতিরে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও আক্রমণের সঙ্গে নেই ব্রিটেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এক ঘোষণায় এ কথা জানান। তিনি বলছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার দেশের ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। আলবানিজ অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টে বলেন, তার সরকার অঞ্চলটিতে (মধ্যপ্রাচ্য) ছয়টি সংকট মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সপ্তাহের শুরুতে আমাদের জরুরি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছি।’

ইতালি সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে : এদিকে ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। গতকাল ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো তাঁর দেশও উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। আমরা স্পষ্টতই প্রতিরক্ষা সহায়তার কথা বলছি বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা। মেলোনি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যে শুধু বন্ধুপ্রতিম তা নয়, ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার ইতালীয় নাগরিক আছেন। প্রায় দুই হাজার ইতালীয় সৈন্যও আছে। তাদের সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here