News Times BD

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকা সিটিতে একটা মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে সমন্বিতভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং তার ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ঢাকা সিটিসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ অথবা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের ৭১বিধিতে দেওয়া নোটিশের পর তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। শওকত আরা আক্তার কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ ধারায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নেটিশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশের সব গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর করার প্রস্তাব দেন। নোটিশে তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ বাড়ার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বন, নদী ও বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং সার্বিক অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ২৪ শতাংশ আসে পরিবহন খাত থেকে। আর বাংলাদেশে পরিবহন খাত থেকে বছরে প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়, যা মোট জাতীয় কার্বন নিঃসরণের ৯ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ থেকে ৯০ শতাংশ আসে সড়ক পথ থেকে, যেখানে ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাক সবচেয়ে বেশি দায়ী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য গণপরিবহনে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নোটিশে তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে গণপরিবহনকে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে রূপান্তর করতে হবে। সিএনজি এবং এলএনজি ডিজেল ও পেট্রলের তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণকারী হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। স্থায়ী সমাধান হিসেবে বায়োডিজেল, বায়োগ্যাস, সবুজ হাইড্রোজেন ও পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে, সৌর বিদ্যুৎ থেকে চার্জ করা যায় এমন পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নোটিশের পর শওকত আরা আক্তার সংসদে প্রশ্ন রাখেন, ঢাকার রাস্তায় জনদুর্ভোগ একটি অন্যতম কারণ হলো- ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক, কাকডাকা ভোর থেকে সড়কে নামে লাখ লাখ। ব্যাটারিচালিত রিকশায় কম খরচে সহজে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। আবার চালকের শারীরিক পরিশ্রমও কম হওয়ায় যাত্রী-চালক উভয়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর এসব রিকশায় কার্বন নিস্বঃরণের তেমন একটা না হওয়ায় পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু মাত্রাতিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে তীব্র জানজট, ঘন ঘন দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। চালকরা অদক্ষ হওয়ায় এবং তাদের কোনও ধরনের লাইসেন্স প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক জ্ঞান না থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। সম্পূরক প্রশ্নে শওকত আরা আক্তার জানতে চান এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না করে এগুলোর মান উন্নয়ন ও কোনও একটি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার মাধ্যমে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনও ব্যবস্থা আছে কিনা? জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যেটা উল্লেখ করেছেন সেটা হচ্ছে ঢাকা মহানগর কেন্দ্রিকটা বেশি উনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এটা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এটা নিয়ন্ত্রণ করে না। তার এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগও কম। তবে ঢাকা সিটিতে একটা মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে সমন্বিতভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং তার ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে, কীভাবে করা যেতে পারে, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা সিটি এবং সারাদেশে ব্যাটারি চালিত যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অথবা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে, তার আলোকেই সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবার এক নতুন ও নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহন রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের মালামালের ওপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক বা ফি ধার্য করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন তিনি। 

ট্রাম্পের মতে, এই অস্থির অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচ হিসেবে অন্যান্য দেশের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হবে।

সোমবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার হরমুজ প্রণালির অভিভাবক বা রক্ষক হতে যাচ্ছে। তারা ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই এই প্রণালিটি নিজেদের দখলে নিয়ে সম্ভবত এর পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের এই জলসীমায় গত সপ্তাহান্তেই ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনার পরপরই ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক মন্তব্য এলো।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবারও কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশগুলো যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে ও ন্যায্যভাবে চলাচল করতে পারে, সেই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু এর বিনিময়ে, এক ধরনের ‘ন্যায্যতার’ খাতিরে, এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার যাবতীয় খরচ তুলতে সব ধরনের কার্গো বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপ করবে মার্কিন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই হরমুজ প্রণালিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন বা প্রধান ধমনি বলা হয়। বৈশ্বিক খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়, যার কারণে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি পুনরায় মারাত্মক রূপ নেওয়ায় এই প্রণালিটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই প্রণালি দখল এবং ট্রানজিট ফি আদায়ের ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন ঝড় তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা ও পলিটিকো

Exit mobile version