সমালোচনা কঠোর ভাষায় হতে পারে, কিন্তু তা যেন অশ্লীল ভাষায় না হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কট : সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন রিজভী।
সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা।
রিজভী বলেছেন, ‘শক্ত সমালোচনা গণতন্ত্রের প্রাণ। সমালোচনা কঠোর ভাষায় হতে পারে, কিন্তু তা যেন অশ্লীল না হয়। অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে ব্যক্তিগতভাবে গালিগালাজ করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।’
রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে কিংবা স্বাধীনতার আগে থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা ও অগ্রজরা সংগ্রাম করেছেন এবং শরীর থেকে রক্ত ঝরিয়েছেন। সেই রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতায় এবং বারবার তাদের রেখে যাওয়া অর্জন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তো এই জুলাই বিপ্লব হলো। আমরা একটি সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারও দায়িত্বশীল হবে।’
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বিরোধী দলের অধিকার আছে সরকারের সমালোচনা করার; প্রতিটি কাজের সমালোচনা করার অধিকার তাদের রয়েছে। আর এই সমালোচনা করলেই সরকার তার ভুল-ভ্রান্তিগুলো বুঝতে পারবে, টের পাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটাই একটি ডেমোক্রেটিক সরকার বা ডেমোক্রেটিক সোসাইটির বৈশিষ্ট্য।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী নয় বলেই আমাদের গণতন্ত্র বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে গেছে। আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে উচ্চতর আদালত ও গণমাধ্যম-এগুলো এক একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে কখনো গণতন্ত্রকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র কায়েম করা যায় না। প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়; তারা স্বাভাবিকভাবে ও স্বাধীনভাবে গড়ে উঠবে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।’
