রানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী রিম আল-হাসিমি রবিবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সংকটকাল আবুধাবির দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বে কোনো ফাটল ধরাতে পারবে না, বরং তা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের এই হামলা আমিরাতকে মার্কিন ঘাঁটি সরানোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে না, বরং এর উল্টোটি ঘটবে। কয়েক দশকের পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই কৌশলগত অংশীদারত্ব কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের এই আক্রমণকে ‘উন্মত্ততা’ হিসেবে অভিহিত করে রিম আল-হাসিমি বলেন, এই বৈরী আচরণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবুধাবির চুক্তির ধরনে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, আমিরাত কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথানত করবে না এবং কঠিন সময়ে তারা বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করেছে এবং আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনসহ প্রায় দুই হাজার প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ৫ জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। যদিও আমিরাতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবু এই অঞ্চলে ইসরায়েলের চেয়েও বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে দেশটি।
বর্তমানে আবুধাবির আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, যা ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও আমিরাত তার মিত্রদের পাশে থাকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
