জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা এবং এই ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নাম ও ব্যানার ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জকসুর চার নেতা। সেইসঙ্গে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে জকসুর পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার জকসু কার্যালয় থেকে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতি প্রদানকারী নেতারা হলেন— পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল (রাকিব), পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া (তাকরিম আহমেদ) এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান আমিন (সাদমান সাম্য)।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৫ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ভবনে সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির তাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক আহত হন।

জকসু নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত এ ধরনের ঘৃণিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে জকসুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে, যার সঙ্গে জকসুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শিবিরের ওই দুই নেতাকে কেন্দ্র করে জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে যে বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, সে বিষয়ে জকসু অবগত নয়। ফলে তারা জকসুর পদে থাকার ন্যায্যতা হারিয়েছেন। অনতিবিলম্বে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে জকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ছাত্রসংগঠনের স্বার্থে কাজ করে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here