ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের প্রাথমিক ধারণা ছিল এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা বলছে এই লড়াই আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ফ্লোরিডার সদর দপ্তরে অতিরিক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। অন্তত ১০০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বাড়তি জনবল চাওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিই গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রথম বড় কোনো পদক্ষেপ। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ওয়াশিংটন এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা জানালেও এখন স্বীকার করছেন যে এটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে। পেন্টাগনের ভেতরে এই আকস্মিক তোড়জোড় দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলার পরবর্তী ভয়াবহতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগে সঠিক ধারণা ছিল না। এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণেই ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে বাধ্য হয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েলের হামলার পর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি আক্রমণ ঠেকাতে তারা আগেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানকে তার দীর্ঘ ৪০ বছরের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here