ওমরাহ হজ পালন শেষে সৌদি আরবে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১২), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবহা আক্তার এবং একই গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহীদ উল্যাহর ছেলে। নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। আর নিহত গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।
নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওমরাহ শেষে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম জানান, পাশ্ববর্তী গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। আহত ফাইজা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। শোকাহত পরিবারের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।



