হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ব্যারেল প্রতি এক ডলার করে শুল্ক আদায়ের অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই নিয়ম কার্যকর করতে শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে আগেভাগেই ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনা ইউয়ানে টোল পরিশোধ করতে হবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, এই ট্রানজিট অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যেসব জাহাজ এই নিয়ম মানছে না, তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে ব্রডকাস্ট বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক জাহাজের যাতায়াত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে এখন হাতেগোনা ১০ থেকে ১৫টি জাহাজকে অত্যন্ত কড়াকড়ির মধ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় এলাকায় কয়েকশ ট্যাংকার আটকা পড়েছে। একে শিপিং কর্মকর্তারা একটি বিশাল ‘গাড়ির পার্কিং লট’-এর সাথে তুলনা করেছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রভাব জাহির করতেই তেহরান এই কৌশল গ্রহণ করেছে। ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে তারা পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে ইউয়ান ও বিটকয়েনকে। 

সাধারণত সুয়েজ বা পানামা খালের মতো মানবসৃষ্ট পথে টোল আদায়ের বৈধতা থাকলেও হরমুজ প্রণালীর মতো প্রাকৃতিক জলপথে এমন কোনো ফি নেওয়ার অধিকার কোনো দেশের নেই। ওমানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীর এই নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি শুধু তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। সার, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহও এর ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here