ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা এই দুই দেশের স্থাপনা ও স্বার্থে আক্রমণ চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অপেক্ষায় প্রায় এক হাজার জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ করে।
এই কৌশলগত সমুদ্রপথের ওপর ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকায় তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানির খরচও বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আসা জাহাজগুলোকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। কয়েক দিন আগে দূরে একটি জাহাজে কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেটি ইরানি বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইরান আগে হুমকি দিয়েছিল আক্রান্ত হলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। তবে এখন তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র–সম্পৃক্ত জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
তবু বাস্তবে অন্য দেশের জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে। কয়েক দিন আগে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে ওমানের নৌবাহিনী জাহাজটির প্রায় ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করে। তবে এখনো তিনজন নাবিক সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
