News Times BD

হাসনাতের দুশ্চিন্তা, মুন্সীর কর্মীরা একাট্টা জসিমের ট্রাকে

আর মাত্র সাত দিন বাকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সময় যত ঘনিয়ে আসছে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসনে ততই জমে উঠছে প্রচার যুদ্ধ। প্রকাশ্য সভা সমাবেশের পাশাপাশি চলছে নীরব কৌশলের প্রতিযোগিতা। এর মধ্যেই পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব।

এই আসনে উচ্চ আদালতে শেষ আইনি লড়াইয়েও প্রার্থিতা ফিরে পাননি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ফলে মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও তাঁর পরিবার ইতোমধ্যে জসিম উদ্দিনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে দেবীদ্বারে নিজ বাসভবনে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে মঞ্জুরুল জানান, তাঁর সব নেতাকর্মী জসিম উদ্দিনের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দলটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, বিএনপি অভ্যন্তরীণভাবে জসিম উদ্দিনের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। মঞ্জুরুল ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়ায় যাঁরা স্বস্তি পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন করে ভাবনায় পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর জোটের প্রার্থী হিসেবে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভোটার ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন মূল লড়াই হবে গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে।

ভেতরে ভেতরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দেবীদ্বারে দলের প্রার্থী না থাকায় নেতাকর্মীদের বড় অংশ কৌশলী তৎপরতায় নেমেছে। তারা জসিমের ট্রাকের গতি বাড়াতে চাচ্ছে।

এর আগে রিটার্নিং অফিসার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ ও হলফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়ে আপত্তি তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নির্বাচন কমিশন ও পরে উচ্চ আদালতের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা হারান মঞ্জুরুল।

এই আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, জসিম উদ্দিন ছাড়াও রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মজিবুর রহমান। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে হাসনাতকে সমর্থন দেন।

জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা উত্তর জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ দলীয় সিদ্ধান্তে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে হাসনাত আবদুল্লাহকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাঠে না থাকলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তার মতে, বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হবেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর আইনি লড়াই কোনো দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং জনগণের অর্থ লুটের বিরুদ্ধে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেবীদ্বারের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়বেন।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও মাঠে তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুধবার জসিম উদ্দিন দেবীদ্বার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। একই দিন ইসলামী আন্দোলনের আবদুল করিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালান। এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর শাপলাকলি প্রতীকের পক্ষে কর্মী সমর্থকেরা গণসংযোগ ও নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেছেন।

Exit mobile version