ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইউরোপের জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইউরোপের প্রধান চার দেশ স্পেন, ইতালি, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যে পরিচালিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষই এই সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। 

শুক্রবার প্রকাশিত এসব জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ সরাসরি যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের সরকারকে নিরপেক্ষ থাকার বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছে।

 

স্পেনে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৮ শতাংশ নাগরিক এই হামলার বিপক্ষে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মনে করেন, স্পেন সরকারের উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া। এমনকি স্পেনের ভূখণ্ডে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো এই যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়ার বিপক্ষেও মত দিয়েছেন অধিকাংশ স্প্যানিশ নাগরিক। ইতালিতেও চিত্রটি প্রায় একই রকম। সেখানে ৫৬ শতাংশ মানুষ এই হামলার বিরোধিতা করেছেন। ইতালির সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, সরকারের উচিত কোনো পক্ষ না নিয়ে সরাসরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা।

এদিকে জার্মানিতে পরিচালিত এক জরিপ বলছে, সেদেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধকে অন্যায্য বলে মনে করছেন। গত ২০ বছরের মধ্যে বর্তমান সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জার্মানির সাধারণ মানুষের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ জার্মান নাগরিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তারা মনে করছেন, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি এখন নীতি-নৈতিকতার চেয়ে শক্তির দাপট বা পেশিশক্তির মাধ্যমেই বেশি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যেও এই হামলার প্রতি জনসমর্থন অত্যন্ত সীমিত। ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রায় অর্ধেকই এই অভিযানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টিকে দেশটির সাধারণ মানুষ সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছেন, তা নিয়ে সেদেশের ৪৭ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং দেড় শতাধিক স্কুলছাত্রীসহ সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here