Home » বিশ্ব » ইসরাইলি জাহাজে হামলার জবাবে ইয়েমেনে ভয়াবহ বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের

ইসরাইলি জাহাজে হামলার জবাবে ইয়েমেনে ভয়াবহ বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের

ইয়েমেনে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন। দুই দেশের সরকারই হামলার পর এ খবর ঘোষণা করেছে। অপরদিকে দেশ দুটির এই আগ্রাসনের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে জানানো হয়, ইয়েমেনে হামলার খবর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। বাইডেন বলেন, গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। বাইডেন জানিয়েছেন, এই মিশনে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা সমর্থন দিয়েছে।

অপরদিকে সুনাক বলেন, বৃটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্সের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সহায়তা করেছে। এই হামলা ছিল প্রয়োজনীয় এবং আত্মরক্ষার অংশ। তবে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রাসনের জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেন। হুথির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই ‘নির্মম আগ্রাসনের’ জন্য তাদেরকে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে।’

ইয়েমেনের রাজধানী সানা, লোহিত সাগরের হুদায়দাহ বন্দর, ধামার এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদায় ভয়াবহ বিমান হামলা হয়েছে। ইরানপন্থি হুথিরা ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নৃশংস হামলার জবাবে তারা লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজগুলোকে টার্গেট করা শুরু করে। এরইমধ্যে ইসরাইল থেকে আসা একাধিক জাহাজে হামলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো যখন ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে, তখন হুথি বলেছে, ইসরাইলগামী জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে তারা মিত্র গোষ্ঠী হামাসকে সহায়তা করছে।
হুথিদের হামলার কারণে ইসরাইলসহ দেশটির সমর্থক পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্য জাহাজগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে চলতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই ইয়েমেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সে হামলা চালানো হলো। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধ জাহাজ থেকে ইয়েমেনে তমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং মার্কিন জেট বিমান থেকে রাজধানী সানা, হুদায়দাহ এবং হুথিদের লোহিত সাগরের শক্ত ঘাটির বন্দরগুলোসহ মোট ১২টির বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাটি থেকে উড্ডয়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি আরএএফ টাইফুন জেট বিমান দুটি হুথি টার্গেট লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অবাধ বাণিজ্য চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আরো পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে হুশিয়ার করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছেন, হুথিদের সক্ষমতা ধ্বংস করতে এই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় হুথিদের পাইলট বিহীন উড্ডয়ন যান, চালক বিহীন জাহাজ, স্থল-হামলায় ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, উপকূলীয় রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগনের প্রধান সরাসরি হাসপাতাল থেকে এই অভিযান পর্যবেক্ষণ করেছেন। মূত্রথলির ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। এই কর্মকর্তা বলেন, অস্টিন সক্রিয়ভাবে অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অভিযান নিয়ে গত ৭২ ঘণ্টায় তিনি অন্তত দুইবার প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করেছেন।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে সাথে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও। এতে বলা হয়েছে, দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইয়েমেনে হামলা চালানোয় হামলায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, বৃটেন সব সময় চলাচলে স্বাধীনতা এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহের পক্ষে অবস্থান নেবে। এ কারণে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে সীমিত, প্রয়োজনীয় এবং আত্মরক্ষায় যথাযথ মাত্রার পদক্ষেপ নিয়েছি। এই অভিযানে অংশ না নিলেও এই হামলা সংশ্লিষ্ট টার্গেটগুলোর বিষয়ে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং বাহরাইন। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোকে হামলার ক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, গভীর উদ্বেগের সাথে রিয়াদ পুরো পরিস্থিতির উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *