সর্বশেষ
Home » অর্থনীতি » নেপালের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে

নেপালের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে

নেপালের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৮৪ ট্রিলিয়ন রুপিতে। মার্কিন ডলারে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। দিন দিন দেশটির রিজার্ভ আরও বেড়েই চলেছে। শিগগিরই এই সংখ্যা দুই ট্রিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কাঠমান্ডু পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধি যেখানে কোনো দেশের জন্য ভালো ইঙ্গিত বলে বিবেচিত হয়, সেখানে নিজের রিজার্ভ নিয়ে বিপাকে পড়েছে নেপাল। কারণ রিজার্ভ বাড়লেও দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। মূলত বিদেশে থাকা নেপালি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থই হু হু করে দেশটির রিজার্ভ বাড়িয়ে চলেছে। এ নিয়ে পুষ্প কমল দাহালের সরকার হয়ত আনন্দিত হতে পারেন, কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন এটি আসলে দুশ্চিন্তার বিষয়।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেশি থাকার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুটোই রয়েছে। নেপালের মতো দেশগুলো যারা ‘লো-গ্রোথ ট্রাপ’ বা উন্নয়নহীনতার ফাঁদে আটকা পড়েছে, তাদের জন্য অধিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি খারাপ বিষয়। অর্থনীতিবিদ চন্দ্রমানি আধিকারি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মধ্যে একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

আমাদের প্রবৃদ্ধি একদমই কম, অথচ আমাদের রিজার্ভে প্রচুর অর্থ পড়ে আছে। এর মানে হচ্ছে, আমাদের যথেষ্ট বিনিয়োগ হচ্ছে না। এই রিজার্ভ যত বাড়বে, আমাদের উন্নয়ন তত কমবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ ও শ্রম দুটোই প্রয়োজন। কোনো দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি ভাল থাকে, এর মানে হচ্ছে তার অর্থনীতি বেশ স্থিতিশীল। এ ক্ষেত্রে রিজার্ভে থাকা অর্থ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে বিদেশি মুদ্রা প্রবেশ ২১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বিদেশে নেপালি শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি। এই সাত মাসে চার লাখেরও বেশি নেপালি ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য গিয়েছেন। আর এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। দেশটির রেস্টুরেন্টগুলোতে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বছরে যদি ১০ লাখ তরুণ নেপাল ছেড়ে যায়, তাহলে কেনাকাটার পরিমাণ আরও কমে যাবে।
নেপালের জুতা কোম্পানিগুলো বলছে, কোভিডের পর নেপালের তরুণরা দলে দলে দেশ ছাড়ছে। এতে করে উৎপাদনকারীরা তাদের ক্রেতা হারাচ্ছে। ফলে তারা তাদের কর্মী ছাটাইয়ে বাধ্য হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *