সর্বশেষ
Home » খেলা » ফিলিস্তিনের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ফিলিস্তিনের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাতে কুয়েতের জাবের আল আহমেদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় যুদ্ধবিধস্ত দেশটি। দ্বিতীয়ার্ধে আরো তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় ফিলিস্তিন। হ্যাটট্রিক উপহার দেন ওদেই দাবাঘ, জোড়া গোল করেন শেহাব কুম্বর। এটি ‘আই’ গ্রুপে তিন ম্যাচে ফিলিস্তিনের প্রথম জয় আর বাংলাদেশের দ্বিতীয় হার। এর আগে দুই দলই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে, লেবাননের সঙ্গে ড্র করেছে। আগামী ২৬ মার্চ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফিলিস্তিনের সঙ্গে ফিরতি ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ।
এদিন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা পোস্টেও নিচে অভিজ্ঞ আনিসুর রহমান জিকো নয় ভরসা রাখেন তরুণ মিতুল মারমাতে। আগের মতোই ৪-৪-২ ফর্মেশনে একাদশ সাজান কোচ। মিতুল মারমা ছাড়াও সেরা একাদশে ফিরেন তপু বর্মণ। তারিক কাজী না থাকায় সেন্টার ব্যাক পজিশনে খেলানো হয় বিশ্বনাথ ঘোষকে।

লেফটব্যাকে ইসা ফয়সাল এবং রাইট ব্যাকে ছিলেন সাদ উদ্দিন। ডিফেন্সিভ মিডে ছিলেন মোহাম্মদ হৃদয়, তার সামনে মোহাম্মদ সোহেল রানা ও মজিবর রহমান জনি এবং জামাল ভূঁইয়া। আর আক্রমণভাগে রাকিব হোসেনের সঙ্গে জুটি বাধেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল বাংলাদেশই। ম্যাচের সপ্তম মিটিনে রাকিব হোসেন ডান দিক দিয়ে ফিলিস্তিনের এক ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করলেও সতীর্থ কোন খেলোয়াড় না থাকায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। ম্যাচের ১১তম মিনিটে ফিলিস্তিন গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশ্বনাথের মাথা ছুঁইয়ে আসা বল পেয়ে ওদেহ দাবাঘের ক্রস পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে গেলে রক্ষাপায় বাংলাদেশ। ২৭তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন সোহেল রানা। জামাল ভূঁইয়ার দারুন এক পাসে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বা প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে ক্রস ফেলেন, অন্য প্রান্তে ফাঁকায় দাড়িয়ে থাকা সোহেল রানা পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে মারেন। মাথায় হাত দিয়ে বসে পরেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েনেয় ফিলিস্তিন। বিরতিতে যাওয়ার আগে ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতায় দুই মিনিটে দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ৩১তম মিনিটে দাবাঘের শট কোনোমতে পা দিয়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশের ত্রাতা মিতুল। কিন্তু ৪২তম মিনিটে আর পারেননি তিনি। বাঁ দিক থেকে মুসাব বাত্তার জোরাল শট গোলরক্ষক আটকালেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি সাদ-বিশ্বনাথ; অরক্ষিত দাবাঘ সুযোগ কাজে লাগান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও বাংলাদেশের জালে বল জড়ায়। কর্নারে উড়ে আসা বল সোহেলের পায়ে লেগে চলে যায় কুম্বরের কাছে। গোলমুখ থেকে অনায়াসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ছোট কর্নারের পর সতীর্থের ক্রস বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় একটু উপরে তুলে কোনাকুনি শটে মিতুলকে পরাস্ত করেন কুম্বর। ৫৩তম মিনিটে আবারও ফুটে ওঠে রক্ষণের অসহায়ত্ব। মাহমুদ ঈদের ক্রসে বক্সে দাবাঘ দারুণ সাইড ভলিতে খুঁজে নেন জাল। এই ফরোয়ার্ডের পাহারায় তখন ছিলেন না কেউই! ম্যাচ থেকেও ছিটকে যায় বাংলাদেশ। জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেলেও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৬ ধাপ এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন অব্যহত রাখে আক্রমণ। ৬৭তম মিনিটে কুম্বরের শট যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। এরপর ওদেই খারুব ও মাহমুদ ধাধার শট অল্পের জন্য হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।
একটু পরই তিনটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। ফাহিম, সোহেল ও জনিকে তুলে রবিউল হাসান, সুমন রেজা ও চন্দন রায় নামান কাবরেরা। এ ম্যাচ দিয়েই লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হলো চন্দনের, যদি তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

এই প্রথম ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ৫ গোল হজম করল বাংলাদেশ। আগের ছয় ম্যাচে কখনই ২টির বেশি খায়নি দল। চলতি বাছাইয়ে তিন ম্যাচে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জালে গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *