Home » খেলা » ফাইনালে মোহামেডানের সঙ্গী আবাহনী নাকি কিংস?

ফাইনালে মোহামেডানের সঙ্গী আবাহনী নাকি কিংস?

গত মৌসুমে কোনো শিরোপার দেখা পায়নি আবাহনী। চলতি মৌসুমে এরইমধ্যে লীগ শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে। খেলতে পারেনি স্বাধীনতা কাপের ফাইনালও। সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরে থেমেছে তাদের পথচলা। তবে চলতি মৌসুমে ট্রফি জয়ের সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি ক্রুসিয়ানির শিষ্যদের। সুযোগ আছে ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলার। তবে তার আগে সেমির বাধা টপকাতে হবে আবাহনীকে। যেখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বসুন্ধরা কিংস।
আজ গোপালগঞ্জে শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে কিংস ও আবাহনী। যারা জিতবে তারা আগামী ২১শে মে মোহামেডানের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে। এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে জয় দিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে মোহামেডান।
তবে আবাহনীর যে ফাইনালে ওঠা বেশ কঠিন, তা দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখলেই বোঝা যায়। যেখানে তিন ম্যাচ আগেই লীগে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা কিংস। সেখানে আবাহনীর অবস্থান তৃতীয়। লীগে দুই বারের সাক্ষাতে দুইবারই আবাহনীকে হারিয়েছে কিংস। স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালেও কিংসের কাছে ৪-২ গোলে হারে আবাহনী। যদিও ২০১৮ সালে শীর্ষ ফুটবলে উঠে আসার পর প্রথম টুর্নামেন্টে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল দলটি। গত মৌসুমে স্বাধীনতা কাপ জিতে মৌসুম শুরু করা কিংস লীগ শিরোপাও জিতে নেয়। তবে আটকে যায় ফেডারেশন কাপে। বিদায় নেয় সেমিফাইনাল থেকে। অপেক্ষা ফুরিয়ে এবার তাই ট্রেবল জয়ের উৎসব করতে চায় কিংস। তবে কাজটা যে সহজ নয় সে কথা মনে করিয়ে দিলেন কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন।
কিংসের স্প্যানিয়ার্ড কোচ বলেন, ‘ম্যাচের পর ম্যাচ চেষ্টা করে যেতে হবে। দলের পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য এবং একতার ফল হিসেবে আমরা ট্রেবল জিততে পারি। কিন্তু এই পথ সহজ নয়। বড় দুটি দলকে হারিয়ে তা করতে হবে আমাদের।’ দেশের ফুটবল পেশাদার যুগে পা দেওয়ার পর একটি ক্লাবেরই ট্রেবল জয়ের কীর্তি আছে। ২০১২-১৩ মৌসুমে মারুফুল হকের অধীনে ঘরোয়া ফুটবলের তিনটি শিরোপাই জিতেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে এই কীর্তিতে নাম লেখাতে হলে কিংসকে জিততে হবে আর দুটি ম্যাচ।’ লীগ শিরোপা নিশ্চিতের পর ময়মনসিংহে বসুন্ধরা কিংসও পুরোপুরি উৎসব করেনি। তাদের মগজে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল। বিশেষ করে আবাহনীর বিপক্ষে লড়াই অনেকটাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মতো। তাদের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন তাই বলেন, ‘এখনই আনন্দ নয়। আমাদের সামনে সেমিফাইনাল ম্যাচ রয়েছে। আবাহনী ভালো দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে হবে। দলের সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে আমরা মৌসুমে ট্রেবল জিততে চাই। সেই লক্ষ্যে সবাই খেলবে।’
ডিফেন্ডার তপু বর্মণও আশাবাদী কণ্ঠেও বলেন, ‘ট্রেবল জিততে হলে সেমিফাইনালে আবাহনীকে হারাতে হবে। সবাই এখন সেই ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আমরা এই মৌসুমে তিনটি ট্রফি জিতে উৎসব করতে চাই।’ কিংসের সেই আশায় পানি ঢালার জন্য আবাহনী প্রস্তুত আছে জানিয়ে মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয় বলেন, ‘আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো। শেষ সময় পর্যন্ত একই তাল লয়ে খেলতে পারলে ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আশা করছি সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে।’ দলের ম্যানেজার কাজী নজরুল ইসলামও আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা লীগ কিংবা স্বাধীনতা কাপ পাইনি। ফেডারেশন কাপে সম্ভাবনা আছে। কাল (আজ) যদি সবাই ভালো খেলতে পারে তাহলে হয়তো ফাইনালে যেতে পারবো। তবে কিংস ভালো দল। তাদের বিপক্ষে লড়াইটা জমজমাট হবে। তবে আমার বিশ^াস ফাইনাল আমরাই খেলবো। সেখানে মোহামেডানকে হারিয়ে গত আসরের ফাইনালের প্রতিশোধ নিবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *