সৌদি আরব, পাকিস্তানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক জোটকে দেখা হচ্ছে ন্যাটোর মতো একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো হিসেবে। ন্যাটো যেমন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব দিয়েছে, এই জোটও তেমনটা করছে। এতে যুক্ত হওয়ার জন্য তুরস্ক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ১২ই জানুয়ারি টাইমস অব ইসলামাবাদ খবরে জানিয়েছে, এই জোটে বাংলাদেশও যুক্ত হতে পারে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব-পাকিস্তানভিত্তিক একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হওয়ার জন্য তুরস্ক আলোচনা চালাচ্ছে, যা ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতোই বলা হয়েছে, কোনো এক সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনকে সব সদস্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
মূলত রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পাদিত এই সমঝোতা এখন আঙ্কারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হয়েছে। দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামো অনুযায়ী, সৌদি আরব দেবে আর্থিক সহায়তা। পাকিস্তান দেবে তার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও জনবল। আর তুরস্ক যোগ করবে সামরিক দক্ষতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। এমনটা বলেছেন আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক টেপাভ-এর কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এ অঞ্চলে নিজের ও ইসরাইলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন পরিবর্তিত বাস্তবতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের পরিণতি দেশগুলোকে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে প্ররোচিত করছে- কে বন্ধু, কে প্রতিপক্ষ, তা নির্ধারণের জন্য।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানান, তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমেই একীভূত হওয়ায় একটি সম্প্রসারিত জোট গঠন যুক্তিসংগত পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই তিন দেশ ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ঠ সমন্বয় শুরু করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নৌবাহিনী সংক্রান্ত বৈঠক করেছে। এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ তুরস্ক কেবল আরেকটি আঞ্চলিক শক্তি নয়। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের দীর্ঘদিনের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী তুরস্কেরই।
সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়েরই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ রয়েছে। যদিও সামরিক সংঘাতের চেয়ে তারা তেহরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। উভয় দেশই একটি স্থিতিশীল, সুন্নি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার পক্ষে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থক। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সুপ্রতিষ্ঠিত। আঙ্কারা পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে, পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের কয়েক ডজন আধুনিকীকরণ করেছে এবং রিয়াদ ও ইসলামাবাদ উভয়ের সঙ্গেই ড্রোন প্রযুক্তি শেয়ার করছে। ব্লুমবার্গ আগেও জানিয়েছে, তুরস্ক তাদের কা’ন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা আলোচনা এমন এক সময়ে এগোচ্ছে, যখন মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে চার দিনের সামরিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে। ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত এই সংক্ষিপ্ত সংঘাতটি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।




