মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও পর্দার আড়ালে বড় ধরনের যুদ্ধের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, ইরান ইস্যুতে মার্কিন বস অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তিনি খুব শীঘ্রই ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
এই সম্ভাব্য অভিযানটি কোনো সাধারণ বা সীমিত আকারের অপারেশন হবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি হতে পারে কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী এবং বিধ্বংসী সামরিক প্রচারণা। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় চালানো সংক্ষিপ্ত অভিযানের তুলনায় ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ হবে অনেক বেশি বিস্তৃত ও ভয়াবহ। বিশেষ করে ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুন মাসে ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে যে ১২ দিনের হামলা হয়েছিল, এবারের অভিযান তার চেয়েও কয়েক গুণ বড় এবং ইরানের নেতৃত্বের জন্য সরাসরি অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই হামলার রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে। যদিও মার্কিন কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের মনোযোগ এখন অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দিকে। কিন্তু নেপথ্যে যুদ্ধের এই প্রস্তুতি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলোচনার পর মার্কিন অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য এই যুদ্ধই হবে সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত ঘটনা।




