বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে দু’জন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। তারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন। পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারা।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান, যিনি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। 

 

এছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে। আর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে আমিনুল হককে।

সংবিধান অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য এবং বিশেষ বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় নিয়োগ পান।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তবে শর্ত হলো- মোট মন্ত্রীর কমপক্ষে নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে হতে হবে এবং সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেওয়া যাবে। এই অংশটিই টেকনোক্র্যাট কোটার ভিত্তি।

সংসদে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছে সংবিধানের ৭৩ক অনুচ্ছেদে। এতে বলা আছে, কোনও মন্ত্রী সংসদ সদস্য না হলেও সংসদে বক্তব্য দিতে এবং কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন না।

এছাড়া টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের জন্য আরও একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাহলো- তারা কেবল নিজ নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই।

ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য হলেও সংসদীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং সব বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here