শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দে নেওয়ার অঙ্গীকার, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়ন, মাধ্যমিক থেকে রোবোটিক্স চালু, উন্নয়ন বাজেট ব্যয়ে কঠোর নজরদারি এবং পরীক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় সংস্কারসহ একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ১২ দফা নীতিগত এজেন্ডা উপস্থাপন করেন ববি হাজ্জাজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়া সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় থেকে দুই শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের লক্ষ্যও তুলে ধরেন।

উন্নয়ন বাজেটের ব্যয় কাঠামো নিয়েও কঠোর অবস্থান জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষায় গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে রুট কজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাবকে তিনি গ্যাজেট প্রকল্প নয় বরং শিক্ষণ শেখার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উল্লেখ করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা এবং সাইবার সেফটি বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলেন।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে চালুর ঘোষণা দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরবি, চীনা, জাপানি, ফরাসি ভাষা শেখানো হবে। তবে শিক্ষক কনটেন্ট ও মূল্যায়ন প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই বাস্তবায়ন করা হবে।

মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বিজ্ঞান শিক্ষা প্রযুক্তি সাক্ষরতা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ প্রাতিষ্ঠানিক করা এবং নির্বাচিত স্কুলে রোবোটিক্স ও মেকার কর্নার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিষয়জ্ঞান ও মূল্যায়ন সক্ষমতা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কারিকুলাম ও পরীক্ষার সমন্বয়হীনতা দূর করতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে সংস্কার আনার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে লার্নিং ট্রাজেক্টরি কনসেপ্ট ম্যাপ এবং আইটেম ব্যাংক প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সরকারি বেসরকারি আলিয়া মাদ্রাসা কওমি কারিগরি সব ধারার শিক্ষায় ন্যূনতম শিখন মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। মাধ্যমিক স্তরে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্ট এবং স্কুল লীগ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মাধ্যমিক কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মধ্যে স্কিল ক্রেডিট ব্রিজ কোর্স শিল্প একাডেমিয়া ইন্টার্নশিপ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ক্যারিয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ইনোভেশন গ্র্যান্ট শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট লোন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহায়তার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

বাস্তবায়নে তিন ধাপের টাইমলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। প্রথম ধাপে বাজেট বিশ্লেষণ ও পাইলট প্রকল্প দ্বিতীয় ধাপে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা এবং তৃতীয় ধাপে পরীক্ষা সংস্কার ও গবেষণা সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here