ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই লড়াইয়ের মাত্র চার দিনের মাথায় বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। সংঘাতের শুরুতেই ইরানের পাল্টা হামলায় কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনসহ মোট সাতটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে, এখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক এএন/এফপিএস-১৩২ আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। কাতার প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই কৌশলগত সম্পদটি ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। 

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস এলাকায় অবস্থিত ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের রাডারটিও ইরানের নিখুঁত নিশানায় গুঁড়িয়ে গেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।

আকাশসীমার সুরক্ষায় নিয়োজিত আধুনিক সরঞ্জাম হারানোর পাশাপাশি কুয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল নিশানায় বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ বিমানগুলো ধ্বংস হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ইরানি হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল ও বেশ কিছু ভবন ধ্বংস হয়েছে। ইরাকের এরবিল এবং আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এই সংঘাতের রেশ এখন কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here