চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে, কি করবে না- সেই প্রশ্নে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে দেশটিতে। যুদ্ধের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটির ক্ষমতায় কট্টরপন্থিদের প্রভাব বেড়েছে, তারাই নতুন এ আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। দেশটি এনপিটির সদস্য এবং ইসলামি বিধান অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ—এমন অবস্থানই তারা বজায় রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর ইরানের ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান নীতি বদলানো উচিত। অর্থাৎ পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনায় আসছে। এমনকি এনপিটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথাও উঠছে।
ইরানের কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদ মোহাম্মাদ জাভেদ লারিজানি এনপিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভেতরে এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বর্তমানে একদল বোমা তৈরির পক্ষে। অন্যরা কূটনৈতিক পথ বজায় রাখতে চান।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই বিতর্ক হয়তো আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার কৌশলও হতে পারে। অতীতেও ইরান আলোচনায় সুবিধা পেতে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত বোমা তৈরি করা তাদের জন্য সহজ হবে না। তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




