যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ শনিবার এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। তেহরানের অভিযোগ, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) এর প্রথম শর্তটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর করেনি। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান ও যুদ্ধবিরতির ক্রমাগত লঙ্ঘন পরিস্থিতিকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার শামিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার না করা এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর অব্যাহত হামলা এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ইরান এটিকে তাদের প্রতিক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে তবে শত্রুকে প্রতিশ্রুতি মানতে বাধ্য করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে আগামী ২১ জুন সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, তাদের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য তেহরান থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা; এই দুই পরিস্থিতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here