আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে বিদেশ সফরে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনকি বিদেশে তাকে আটক করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ‘বিশেষ বাহিনী’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও দুর্ধর্ষ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরে মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়, তবে আইসিসির ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ রয়েছে, সেখানে নেতানিয়াহু প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে উপস্থাপক শন হ্যানিটি প্রশ্ন করেন, বিদেশ সফরের সময় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এবং আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত কোনো দেশে বিমান অবতরণ করতে হলে তিনি গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবি। আপনি জানেন, আমাদের বিশেষ বাহিনী আছে। আমি সেখানে পাঁচ বছর কাজ করেছি।’

এরপর হ্যানিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘চলুন তাদের একটি নতুন দায়িত্ব দেওয়া যাক।’ এদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারের আলোচনা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না বলেও জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। জোহরান মামদানিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ‘সত্য কথা’ বলবেন। তার অভিযোগ, মামদানি শহরের এক শ্রেণির মানুষকে অন্য শ্রেণির বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার এবং বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার দায় রয়েছে তার। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত সময়ে হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, আইসিসির এই পদক্ষেপ ‘ইহুদিবিদ্বেষপ্রসূত’।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর হেগে বিচার হওয়া উচিত, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের এখতিয়ার নেই; তবে এ বিষয়ে তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ চান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না।’ একই পোস্টে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন এবং বলেন, গ্রেফতারের যোগ্য তারা, যারা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here