হরমুজে একটি বাণিজ্যিক কন্টেইনার জাহাজ ডুবে যাওয়ার নতুন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। তেহরান দাবি করেছে, তাদের তৈরি নিয়ম ও পথ লঙ্ঘন করে একটি অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক রুট ব্যবহারের চেষ্টা করার সময় জাহাজটি নৌ-মাইনে আঘাত হেনে ডুবে গেছে।
তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে অন্যান্য স্বাধীন সূত্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা দ্বিমত।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনকারী সংস্থা ‘ইউকেএমটিও’-এর দেওয়া সতর্কতা অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর হরমুজ অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি রিফাইন্ড প্রোডাক্ট ট্যাংকার এবং একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালিটি দিয়ে বের হওয়ার সময় আক্রান্ত হয়, আর ডুবন্ত কন্টেইনার জাহাজটি প্রণালিতে প্রবেশ করার সময় আক্রমণের শিকার হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে ইরানের ‘তেহরান টাইমস’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নতুন একটি ফুটেজ পোস্ট করে জানায়, প্রণালিতে নিয়ম ভঙ্গকারী কন্টেইনার জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থা দেখা যাচ্ছে ভিডিওটিতে। তবে পোস্টটিতে জাহাজটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মেরিন রিপোর্টিং ও স্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জাহাজটির ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী ১৪ অক্টোবর জানায়, ডুবে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজটিতে ২৫০০টিরও বেশি কন্টেইনার ছিল। তেহরানের দাবি, জাহাজটি নিষিদ্ধ চোরাচালানের মালামাল বহন করছিল এবং একটি বিপজ্জনক ও অননুমোদিত রুট ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়েছিল। এ সময় নৌ-মাইনে আঘাত লেগে এটি ডুবে যায়। এই ঘটনার পর আইআরজিসি নৌবাহিনী স্থানীয় সাধারণ নৌকা ও জেলেদের ভেসে থাকা কনটেইনারগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
তবে জাহাজে মাইন হামলা কিংবা চোরাচালানের বিষয়ে ইরানের দেওয়া বয়ানের সাথে অন্য কোনো স্বাধীন তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি পৃথক এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবং আগুন লাগার ফলে শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। এতে থাকা ২১ জন ক্রু সদস্যকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে মেরিন সিকিউরিটি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজটিতে মিসাইল দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, কোনো মাইন নয়। অন্যদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘মেরিস্কস’ জানিয়েছে, এটি মাইনের আঘাতে ডুবেছে এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ২৫০০ কন্টেইনার এবং চোরাচালানের বিষয়টি কেবল ইরানের একপক্ষীয় দাবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই দিনে সিঙ্গাপুর নিবন্ধিত ‘জিএফএস জিসেল’ নামের আরও একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। জাহাজটির হাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং এটি নিজস্ব শক্তিতেই এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।
সূত্র: গালফ নিউজ




