যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি চাপের মুখে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে ইরানি জনগণের ‘সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ’ লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। পুতিন জানান, তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মস্কো সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া এই অঞ্চলে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে গচ্ছিত রাখার যে প্রস্তাব মস্কো আগে দিয়েছিল, তা ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করলেও পুতিন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

বৈঠকে পুতিন উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছেন। এর জবাবে তিনি আরাঘচিকে আশ্বস্ত করেন, তেহরানের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে মস্কো বদ্ধপরিকর। 

গত বছর স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদী চুক্তির কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার মতো অকৃত্রিম বন্ধু ও মিত্ররা প্রমাণ করেছে যে সংকটকালীন মুহূর্তে ইরান একা নয়। 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই আলোচনার পর জানান, রাশিয়া চায় ওয়াশিংটন ও তেহরান যেন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে, কারণ পুনরায় সামরিক সংঘাত কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টা চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: ইন্টারনাজিওনালে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here