মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। 

সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। 

 

এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে। 

কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। 

আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে।

ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

সূত্র: সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here