ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আজ বৃহস্পতিবার বিস্তারিত ব্রিফিং করবেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেন্টকম ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর একটি স্বল্পস্থায়ী কিন্তু শক্তিশালী বিমান হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যেখানে মূলত দেশটির অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউস এবং সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পর যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, ঠিক তখনই এই নতুন সামরিক পরিকল্পনার খবর সামনে এল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপিত হতে যাওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর একাংশ দখল করার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধের কারণে বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই এলাকাটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনে মার্কিন স্থল বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, এমন সামরিক চাপ ইরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে আরও নমনীয় হতে বাধ্য করবে।
ট্রাম্প বরাবরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আসন্ন হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানের প্রস্তাবও আজকের ব্রিফিংয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইরান শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি করে আসছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের যে হুমকি দিচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সেন্টকম প্রধানের পাশাপাশি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ




