বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মঙ্গলবার ডালাসে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের কৌশল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রেও রয়েছেন দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল। একজন বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা, অন্যজন ভবিষ্যতের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা হিসেবে বিবেচিত।

২০১৮ বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান এমবাপ্পে। এবারও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ফরাসি অধিনায়ক। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আছেন। এছাড়া তিনটি গোলে সহায়তা করে মোট ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন, যা এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৯। শুধু মেসির ২০ গোলই তার সামনে। এই আসরেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

অন্যদিকে, সোমবার ১৯ বছরে পা দেওয়া লামিন ইয়ামাল এখন স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একজন। যদিও এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক গোল করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ। তবে গোল কম হলেও ড্রিবলিং, সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, ইয়ামালের সেরা সময় এখনও সামনে। তার মতে, বড় ম্যাচে এক-দুটি মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে এই তরুণের।

পরিসংখ্যানও দুই তারকার ভিন্ন ধরনের শক্তির কথা বলছে। এমবাপ্পে গোল করার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে থাকলেও ড্রিবলিং, বল পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণে অবদান রাখার দিক থেকে ইয়ামাল এগিয়ে।

দুই ফুটবলারের লড়াই নতুন নয়। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় আসরের সেমিফাইনালে ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। পরে দুই দলের আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়েও জয় পায় স্প্যানিশরা।

তবে এবারের মঞ্চ আরও বড়। কারণ, এই ম্যাচের জয়ী দল খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। তাই শুধু ফ্রান্স-স্পেন দ্বৈরথ নয়, এমবাপ্পে ও ইয়ামালের ব্যক্তিগত লড়াইটিও হতে যাচ্ছে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

অভিজ্ঞতার সামনে কি তরুণ প্রতিভা জ্বলে উঠবে, নাকি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবেন এমবাপ্পে সেই উত্তর মিলবে ডালাসের সেমিফাইনালেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here