নিজস্ব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে উপজেলা মাঠ চত্বরে এক প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর, লাঞ্ছিত ও চশমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শুক্রবার (১৭ জুলাই) হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৭১১) দায়ের করেছেন। ডায়েরির আবেদনকারী মোঃ নাজমুল হক ভূঞা (৫৪) উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজমুল হক ভূঞা উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে হোসেনপুর উপজেলা মাঠ চত্বরে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
ডায়েরিতে উল্লিখিত ২নং বিবাদী মেছেড়া গ্রামের মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে মোঃ মস্তোফা সারোয়ার সুমন (৪৪) প্রধান শিক্ষকের পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, বন্ধু হেলালের দাবি কেন মানতেছিস না, এডহক কমিটিতে আমার নাম দিলি না।একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের কপালে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। হামলায় প্রধান শিক্ষকের চোখে থাকা ১৫০ পাওয়ারের একটি চশমা ভেঙে আনুমানিক ১,৫৫০ টাকার ক্ষতি হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সুমনের সাথে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন হামলাকারী যোগ দিয়ে প্রধান শিক্ষকের বুকে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে নীলাফুলা জখম করে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার শিকার প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক ভূঞা হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পিপলাকান্দি গ্রামের মোঃ আমির উদ্দিন (৬৫) ও চরহাজীপুরের মোছাঃ শেফালী আক্তারের (৪০) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জানান, বীরকাটিহারী গ্রামের মৃত আঃ লতিফ ওরফে হামিদ মুন্সীর ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিনের (৪৫) সাথে তাঁর পূর্ব থেকেই শত্রুতা ছিল। এই ঘটনার পেছনে তাঁর ইন্ধন রয়েছে বলে ডায়েরিতে ১নং বিবাদী হিসেবে হেলাল উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এই সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




