কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের চলে যাওয়া শেষ হয়ে যায় না। তাঁরা থেকে যান মানুষের স্মৃতিতে, ইতিহাসের পাতায়, প্রজন্মের পর প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনায়। তাঁদের জীবন হয়ে ওঠে একটি সময়ের দলিল, তাঁদের সংগ্রাম হয়ে ওঠে একটি জাতির ইতিহাসের অংশ।
বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। আজ তাঁর জীবনের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতির গত কয়েক দশককে খালেদা জিয়ার জীবন থেকে আলাদা করে দেখা প্রায় অসম্ভব। তিনি শুধু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নন, শুধু বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক সময়ের প্রতিচ্ছবি, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ এবং লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের নাম।
কিন্তু তাঁর এই পথচলা শুরু হয়েছিল রাজনীতির মঞ্চ থেকে নয়-একটি সংসার থেকে। তিনি ছিলেন একজন স্ত্রী, একজন মা। রাজনীতি তাঁর জীবনের প্রথম পরিচয় ছিল না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তাঁর জীবন ছিল অনেকটাই পারিবারিক। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার পর তাঁর জীবনের সব হিসাব বদলে গেল।
এক রাতেই একজন স্ত্রী হারালেন তাঁর স্বামীকে।
একজন মা হারালেন তাঁর সন্তানদের পিতাকে।
আর বাংলাদেশ হারাল একজন রাষ্ট্রনায়ককে।
সেই শোকের মধ্যেই ইতিহাস তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে আসে। তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় নয়; এসেছিলেন এক কঠিন সময়ে দলের হাল ধরতে। তারপর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, রাজপথের মিছিল, গ্রেপ্তার, কারাবাস, রাজনৈতিক চাপ, ষড়যন্ত্র-কোনোটিই তাঁকে থামাতে পারেনি।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন এরশাদ সরকারের পতন হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করল। সেখানেই শেষ নয়। ক্ষমতায় গিয়ে তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী হননি; বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক পরিবর্তনের অংশীদার হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। যে ক্ষমতা তিনি নিজে ভোগ করতে পারতেন, সেই ক্ষমতার কাঠামোকেই তিনি সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্রের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেন। এ কারণেই খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর নয়-বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
তাঁর নির্বাচনী ইতিহাসও বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি যে আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেগুলোর প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন। পাঁচটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটি নির্বাচনে পাঁচটিতেই জয়-এক অসাধারণ রাজনৈতিক জনভিত্তির প্রমাণ। ২০০৮ সালেও তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই জয়ী হন। বগুড়া থেকে ফেনী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর থেকে খুলনা-দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাঁকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। ফার্স্ট লেডি থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া, পাঁচটি আসনে একাধিকবার শতভাগ জয়, ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া-এসব শুধু পরিসংখ্যান নয়; এগুলো তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য। কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন শুধু নির্বাচনী জয় দিয়ে হয় না। তাঁর সময়ের সিদ্ধান্তগুলোও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে।
নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষার উদ্যোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ-এসব তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
১৯৯২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন হন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে একজন নারী নেত্রীর জন্য এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াতেও তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে এই ব্যবস্থা একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের জন্ম দেয়। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়গুলোও তাঁর জীবনকে ছাড়েনি।
একজন মানুষ যত বড় রাজনৈতিক নেতা হন, ব্যক্তিগত জীবনের শোক তার কাছে ততটাই বাস্তব থাকে।
খালেদা জিয়া হারিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে। হারিয়েছেন তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে। একজন মায়ের জন্য সন্তানের কবরের সামনে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় কোনো রাজনৈতিক পরাজয় নেই। সেখানে কোনো পদমর্যাদা থাকে না, কোনো ক্ষমতা থাকে না, কোনো দল থাকে না-থাকে শুধু একজন মায়ের বুকফাটা কান্না।কোকোর মৃত্যু তাঁর জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। আর সেই শোকের মধ্যেও তাঁকে রাজনীতি করতে হয়েছে, মানুষের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে, দলের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।
এটাই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অদৃশ্য সংগ্রাম-যে বেদনা তিনি প্রকাশ্যে বহন করেছেন, কিন্তু দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।এরপর এসেছে আরও কঠিন সময়। মামলা, কারাবাস, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অসুস্থতা-সবকিছুর মধ্যেও তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। তাঁর সমর্থকদের কাছে তাই ‘আপসহীন নেত্রী’ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান মাত্র নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তবে খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ অধ্যায়টি শুধু তাঁর নিজের জীবনের গল্প নয়; এটি তাঁর পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমানকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতির আরেকটি অধ্যায় তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ নির্বাসন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও অপেক্ষার পর তাঁর দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা বহু বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসে। ছাত্র-জনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে চলে যান। ৬ আগস্ট দেশের জনগণের ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান।
সেই মুক্তির মুহূর্ত ছিল প্রতীকী।
যে নারী গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে লড়েছিলেন, যিনি দীর্ঘ সময় বন্দিত্বের কষ্ট সহ্য করেছেন, তিনিই আবার মুক্ত বাংলাদেশের বাতাসে ফিরে এলেন।
কিন্তু এরপরও তাঁর জীবনের সব অপেক্ষা শেষ হয়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নানা দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক হিসাব, অনিশ্চয়তা ও বাস্তবতার কারণে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হয়েছে-এমন বিশ্বাস বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীরভাবে রয়েছে। একটি পরিবারের কাছে সেই অপেক্ষা ছিল যেমন দীর্ঘ, তেমনি একটি রাজনৈতিক দলের কাছে ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষার সঙ্গে যেন খালেদা জিয়ার নিজের জীবনেরও একটি অসমাপ্ত অধ্যায় জড়িয়ে ছিল-স্বামী হারানোর পর যে সন্তানদের ঘিরে তিনি বেঁচেছিলেন, তাঁদের একজনকে তিনি হারিয়েছেন, আরেকজনকে দীর্ঘদিন দূরদেশে থাকতে হয়েছে।
এই জায়গায় এসে খালেদা জিয়াকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর জীবনের গভীরতাটা বোঝা যায় না।
তাঁকে দেখতে হয় একজন মা হিসেবে। যিনি স্বামী হারিয়েছেন। সন্তান হারিয়েছেন। সন্তানকে দূরদেশে থাকতে দেখেছেন। নিজে কারাগারে থেকেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তারপরও ভেঙে পড়েননি।
আজ তাঁর জীবনের দিকে ফিরে তাকালে তাই অর্জনের তালিকার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে তাঁর ত্যাগের গল্প।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ভুল থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তাঁর সরকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থাকতেই পারে। ইতিহাসে বড় মানুষদের মূল্যায়ন কখনো একরৈখিক হয় না। কিন্তু তাঁর সংগ্রামকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন সময়ও গেছে যখন তাঁর সামনে আপস করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি করেননি। এমন সময়ও গেছে যখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে বেছে নেওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু তিনি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাননি। এই কারণেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘আপসহীন’ শব্দটি এত গভীরভাবে যুক্ত হয়ে আছে।
একটি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কতবার ক্ষমতায় ছিলেন, তা নয়। বরং কতবার ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছেন-সেটিই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস মনে রাখে।
খালেদা জিয়া দাঁড়িয়েছিলেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর দাঁড়িয়েছিলেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন। সন্তান হারানোর পর দাঁড়িয়েছিলেন।
কারাগারের পর দাঁড়িয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও দাঁড়িয়েছিলেন। তাই তাঁর জীবন কেবল একটি রাজনৈতিক জীবনী নয়। এটি বাংলাদেশের এক নারীর অসম্ভব দৃঢ়তার গল্প। এটি একজন মায়ের কান্না গোপন করে দায়িত্ব পালন করার গল্প।
এটি একজন স্ত্রীর হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে রাজনীতির মাঠে দাঁড়িয়ে থাকার গল্প।
এটি একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে যত প্রতিকূলতা এসেছে, তার মধ্যেও নিজের বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে থাকার গল্প। আর সবচেয়ে বড় কথা-এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।
সময় একদিন সব রাজনৈতিক বিতর্কের বিচার করবে।
ইতিহাস একদিন সব সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করবে। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে কিছু স্মৃতি থেকে যায় বিচার-বিশ্লেষণের অনেক ঊর্ধ্বে। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হবে। কোনো একদিন হয়তো তাঁর নাতি-নাতনিরা, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ইতিহাসের বই খুলে পড়বে-একজন নারী ছিলেন, যিনি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অস্থির সময়ে উঠে এসেছিলেন। যিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়েছেন। যিনি নির্বাচনে একাধিকবার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব আসনে জয় পেয়েছেন। যিনি নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন নিষিদ্ধ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রথম নারী সার্ক চেয়ারপারসন হয়েছেন।
কিন্তু ইতিহাসের সেই বইয়ের পাতার বাইরেও তাঁকে মনে রাখবে মানুষ। মনে রাখবে রাজপথের সেই নারীকে।
মনে রাখবে সাদা শাড়িতে, অসুস্থ শরীরে, চোখে অদম্য দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নেত্রীকে।
মনে রাখবে একজন মাকে-যিনি কোকোকে হারিয়েও বেঁচে ছিলেন।
মনে রাখবে একজন স্ত্রীকে-যিনি জিয়াউর রহমানকে হারিয়েও তাঁর আদর্শের রাজনীতি বয়ে নিয়ে গেছেন। মনে রাখবে একজন নেত্রীকে-যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ছিলেন।
খালেদা জিয়ার জীবন তাই শুধুই জন্ম-মৃত্যুর দুটি তারিখের মধ্যে আটকে থাকা কোনো গল্প নয়।
এটি একটি সময়ের ইতিহাস।
এটি ত্যাগের ইতিহাস।
এটি সংগ্রামের ইতিহাস।
এটি একজন নারীর অসাধারণ রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস।
এটি একজন মায়ের অশ্রুর ইতিহাস।
এটি একজন নেত্রীর আপসহীনতার ইতিহাস।
আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে-বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি নাম নন।
তিনি একটি অধ্যায়।
একটি সংগ্রাম।
একটি স্মৃতি।
একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
সময় তাঁকে নিয়ে আরও বিচার করবে। ইতিহাস তাঁকে নিয়ে আরও লিখবে। কিন্তু যতদিন বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র, আন্দোলন, সংগ্রাম আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাস স্মরণ করবে, ততদিন কোনো না কোনোভাবে ফিরে আসবে সেই নাম-
বেগম খালেদা জিয়া।
একজন নারী, যিনি ব্যক্তিগত জীবনের অসীম শোককে অতিক্রম করে একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করে গেছেন। আজ ১৫ই আগষ্ট, ২০২৬- ৮২ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কে।
কৃষিবিদ ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ
সাংগঠনিক সম্পাদক, ভেটেরিনারি ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -ভ্যাব




