অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে পোস্টাল ব্যালট পেপার পুনরায় ছাপানোর দাবি জানিয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। একইসঙ্গে বাহরাইনে প্রবাসী এক জামায়াত নেতার বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পোস্টাল ভোটে প্রবাসীদের অধিকারের দাবি আমাদেরও ছিল। অনেক আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট ৫-৭ হাজার। অনেক আসনে পোস্টাল ভোট ফলাফলে নিয়ামক হতে পারে। কিন্তু প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রথম লাইনে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি এবং হাতপাখা প্রতীক রয়েছে। কিন্তু বিএনপি’রটা মাঝে, যা ভাঁজ পড়লে অস্পষ্ট হয়ে যাবে, ধানের শীষ দেখা যাবে না।’
এই ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ইসি অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছে, তারা বিষয়টি জানে না। তাদের দাবি, অক্ষরের ধারাবাহিকতায় এটি সাজানো হয়েছে। কিন্তু এটি অন্যভাবেও সাজানো যেতো। যারা দায়ী তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে।’
পোস্টাল ব্যালট সংশোধনের দাবি জানিয়ে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ‘বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতার বাসায় থাকা অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে ব্যবস্থা না নিলে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জায়গায় দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনো আমরা এমন দেখিনি। আমাদের আশঙ্কা, তারা ভুয়া এনআইডি বানিয়ে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে ভোট কিনতে প্রলুব্ধ করতে পারে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ইসি ব্যবস্থা নেয়নি। এগুলো অনৈতিক, বেআইনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার অন্তরায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। নানা অজুহাতে বিএনপি প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও সবার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন একই আচরণ করছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গের সফর ইস্যুতে নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো রাজনৈতিক সফর নয়, তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে উত্তরবঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইসি’র অনুরোধে সেই সফরও স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপি ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চায়। ফলে পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সেই সফর স্থগিত করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্য দলগুলোর নেতারা আচরণবিধি মানছেন না। ইসি সবার প্রতিই যাতে আইনানুগ আচরণ করে। ইসি’র নির্লিপ্ততা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ, সদস্য মোর্শেদ হাসান খান, ড. মাহদী আমিন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম, আনোয়ার হোসেন, বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।



