ব্রাজিল ও জাপান যখন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে, তখন সবচেয়ে বড় দোটানায় থাকবেন আলেক্স সান্তোস। জন্মসূত্রে ব্রাজিলিয়ান হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন জাপানের। তাই দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠলে তার অনুভূতিও হবে ভিন্নরকম।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই আবেগের কথাই তুলে ধরেছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার।

ব্রাজিলের পারানা অঙ্গরাজ্যের মারিঙ্গায় জন্ম নেওয়া সান্তোস ১৬ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য জাপানে পাড়ি জমান। সেখানে স্কুলজীবন শেষ করে স্থানীয় ক্লাব শিমিজু এস-পালসে যোগ দেন। পরে জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে জাতীয় দলে সুযোগ পান এবং ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে দেশটির হয়ে খেলেন।

সান্তোস জানান, জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার পরই তিনি নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ দেড় বছরের প্রক্রিয়া শেষে ২০০১ সালে জাপানের নাগরিক হন তিনি।

২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামেন সান্তোস। সেই ম্যাচের আগে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত শোনার মুহূর্তটি আজও তার কাছে বিশেষ।

তিনি বলেন,‘জাপানের জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করতে শিখেছিলাম। কিন্তু ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত বাজতে শুরু করলে মনে হয়েছিল, যেন বাবা-মা দুজন সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর আমাকে বলতে হবে কাকে বেশি ভালোবাসি। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।’

ডর্টমুন্ডে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, কাকা ও আদ্রিয়ানোর মতো তারকাসমৃদ্ধ ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় জাপান। তবু ম্যাচটি সান্তোসের স্মৃতিতে অমলিন।

তিনি বলেন,‘রোনালদো-রোনালদিনিয়োদের টেলিভিশনে দেখতাম। বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার বড় সুযোগ ছিল সেটি।’

সাবেক কোচ জিকোর অধীনে জাপানের ফুটবলে যে পরিবর্তন এসেছিল, সেটিও স্মরণ করেন সান্তোস। তার মতে, জিকো জাপানকে শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল থেকে বের করে এনে আক্রমণাত্মক ও সৃষ্টিশীল ফুটবলের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।

সোমবারের ম্যাচ নিয়েও নিজের বিশ্লেষণ দিয়েছেন তিনি। সান্তোসের বিশ্বাস, দুই দলই শুরুতে সতর্ক থাকবে। জাপান ভরসা রাখবে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে, আর ব্রাজিল চেষ্টা করবে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে।

তবে সমর্থন করবেন কাকে?

হাসিমুখেই উত্তর দিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী সাবেক এই ফুটবলার,‘নিশ্চিতভাবেই আমি জাপানকে সমর্থন করব। তবে যদি ব্রাজিল জিতে, তাতেও আমার খারাপ লাগবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here