বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশি ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়ানো এবং থাই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।

শুক্রবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। থাই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব এক্সিরি পিন্তারুচি।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, কৃষি, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রস্তাব দু’টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা দ্রুত শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করে থাইল্যান্ড।

বৈঠকে চট্টগ্রাম-রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরুকে স্বাগত জানায় উভয় পক্ষ। গত সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এ রুটে পণ্য পরিবহনে সময় ১৫ দিন থেকে কমে চার দিনে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদনে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষ জনশক্তি প্রশিক্ষণে থাইল্যান্ডের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে প্রত্যাবাসনেও ব্যাংককের সমর্থন চাওয়া হয়।

সীমান্তপারের মানবপাচার, অস্ত্র পাচার, অনলাইন প্রতারণা ও মাদক চোরাচালান মোকাবিলায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

আগামী বছর বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের সরকারপ্রধান পর্যায়ে সফর বিনিময়ের আশা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয় দুই পক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here