ফুটবলপাগল শহর হিসেবে পরিচিত মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা। অথচ বিশ্বকাপের ম্যাচে সেই শহরের স্টেডিয়ামেই দেখা গেল অসংখ্য খালি আসন। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার ম্যাচে গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ফাঁকা আসনের দৃশ্য নতুন করে উসকে দিয়েছে বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে চলমান বিতর্ক।
শুক্রবার সকালে সাপোপানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফার তথ্য অনুযায়ী ম্যাচটিতে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন দর্শক। তবে ৪৬ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি দেখা যায়।
এদিকে, মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দেখতে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল গ্যালারি। সেই তুলনায় গুয়াদালাহারার ম্যাচে খালি আসন সহজেই চোখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি ফিফার বাণিজ্যিক কৌশল এবং টিকিট মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা সমালোচনা রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো গ্যালারির ফাঁকা আসনের বিষয়টি।
স্টেডিয়ামে আসা কয়েকজন সমর্থকের দাবি, টিকিটের অতিরিক্ত দামই এর প্রধান কারণ। তাদের মতে, বর্তমান মূল্য কাঠামোর কারণে অনেক সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর পক্ষে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকিট সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে গেছে এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
ফিফা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের ৬০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, টিকিটের চাহিদা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় ‘১০ গুণেরও বেশি’ ছিল। তবে সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) শুরু থেকেই ভিন্ন সুরে কথা বলে আসছে। সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছিল, টিকিটের ‘অতিরিক্ত’ ও ‘গলাকাটা’ মূল্য সাধারণ সমর্থকদের মাঠমুখী হওয়ার পথ রুদ্ধ করবে।
এফএসই-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আর বিশ্বকাপের শুরুতেই গুয়াদালাহারার গ্যালারিতে দেখা যাওয়া খালি আসন সেই আশঙ্কাকেই যেন আরও জোরালো করে তুলেছে।




