বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সদস্য দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং নারী ৭৩ জন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিটিসিএন্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার রোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের প্রধান অলংকার। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনার সমন্বয়েই বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা গড়ে ওঠে। বিজিবির চার মূলনীতি—মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন আল ইমরান। শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও লুবনা খাতুন (মহিলা)। শ্রেষ্ঠ ফায়ারার নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও নাহিদা আক্তার (মহিলা)। পুরস্কার তুলে দিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান প্রধান অতিথি।
এ দিকে নির্বাচনী দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য নির্বাচনের মাঠে নিয়োজিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজিটিসিএন্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা ও বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে ১০৪তম ব্যাচে একসঙ্গে ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নবীন সৈনিকদের চৌকস দল প্রধান অতিথিকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। পরে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত বাদকদলের মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে পরিবেশিত হয়।
এ সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




