সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশটি মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতাটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা বিধান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে প্রবেশের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে না এলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী সৌদি আরব পরবর্তীতে নিজেদের ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে। মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা সেন্ট্রিফিউজ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে ইউরেনিয়াম প্রসেসিং পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের এই প্রযুক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহারযোগ্য। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে অন্য কোনো দেশকে নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনো সহায়তা দেয়নি, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অবশ্য এই অভিযোগ ও ঝুঁকি নাকচ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে; এমন কোনো পদক্ষেপ ওয়াশিংটন কখনো নেবে না। এছাড়া মার্কিন শক্তি সচিব ক্রিস রাইট এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, চুক্তিটিতে বিশ্বমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

এই চুক্তির রাজনৈতিক ও কৌশলগত সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অব্যাহত টানাপোড়েন, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি নৌসীমানায় ব্লকেড দেওয়ার খবরের পরপরই এটি স্বাক্ষরিত হলো। পূর্বের নীতি অনুযায়ী সৌদি আরবের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের পূর্বশর্ত হিসেবে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি জোর দেওয়া হতো। কিন্তু এবার ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্ত ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিয়াদ যাতে রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে এ ধরনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তিতে আবদ্ধ না হতে পারে, সে জন্য ওয়াশিংটন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে এবং এর জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন সরকারের করা পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে; যেখানে ইউএই নিজেদের মাটিতে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না বলে অঙ্গীকার করেছিল। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও চুক্তি পর্যালোচনার সময় সিনেট ও হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভসে এটি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র:  বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here