আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণায় আল্টিমেটাম দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুসাব্বিরের নামাজে জানাজার আগে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এ আল্টিমেটাম দেন। তারা বলেন, মুসাব্বিরের হত্যাকারী দুস্কৃতিকারীদের আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি। এই গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।

বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামী করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেছেন।
বাদ জোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় মুসাব্বিরের কফিন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, আমি বলব, অনতি বিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বলেছেন- আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করেছি, আপনার নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু যখন আমরা দেখি এখন পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হন নাই এবং এখন পর্যন্ত আমরা মুসাব্বিরের যে হত্যাকারী, যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে- যদিও বেশিক্ষণ হয় নাই। এখানে আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন,  ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করব, এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোন ঘাটতি আছে, অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলব, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

মীর সরফত আলী সপু বলেন, মুসাব্বির একজন দেশপ্রেমিক সাহসী সৈনিক। অনেকবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে গ্রেপ্তার হয়েছে। একবার তাকে গুম করা হয়েছে। আমার মনে আছেন আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভী রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মুসাব্বিরকে গুম করার খবর দেশবাসীকে জানায় গণমাধ্যমের মাধ্যমে। পরে গুম থেকে রক্ষা পেয়ে কারাগারে গেলে তার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো। জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন তিনি। তার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।

আমিনুল হক বলেন, একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুসাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন- কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। আমরা মনে করি, মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

তানভীর আহমেদ রবিন মুসাব্বিরেরে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব আপনারা মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন, নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এই হত্যা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here