পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মানি। জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চলমান এই সংঘাতের সঙ্গে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের একজন মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে কঠোর ভাষায় বলেন, এই যুদ্ধ ন্যাটোর যুদ্ধ নয়, ফলে এতে জোটভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ন্যাটো জোটকে উদ্দেশ করে এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিতে বলেছিলেন যে, এই জোটে সহযোগিতা না করলে এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত ‘খারাপ’ হতে পারে। সেই বার্তার পরিপ্রেক্ষিতেই বার্লিন তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল।
জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক বা নজরদারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা তাদের আগেও ছিল না এবং বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। আজ সকালে ব্রাসেলসে পৌঁছে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল সাংবাদিকদের জানান, হরমুজ প্রণালিতে ন্যাটো সদস্যদের কোনো ভূমিকা তিনি দেখছেন না।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ না থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত পরিকল্পনা কী, তা তার কাছে এখনো অস্পষ্ট। চ্যান্সেলরের মুখপাত্র আরও মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধ শুরুর আগে খোদ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল স্পষ্ট করেছিল যে এই অভিযানে ইউরোপীয় সহায়তার কোনো প্রয়োজন বা আকাঙ্ক্ষা তাদের নেই।
উল্লেখ্য, আজ বার্লিনে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জার্মান চ্যান্সেলর, যেখানে ট্রাম্পের দাবি এবং ইউরোপের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন




