মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে হরমুজ প্রণালী সচল করতে এবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের পর এবার আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক ‘নতুন মিত্র’ তৈরির বার্তার পরপরই এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এল। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নিরসনে এখন শক্তি প্রয়োগকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে দুবাই ও তার মিত্ররা।

 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে হরমোজ প্রণালীতে একটি বিশেষ সামরিক ভূমিকা পালনের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরান কর্তৃক পেতে রাখা মাইন অপসারণ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীকে সর্বাত্মক সমর্থন জোগানো। 

শুধু তাই নয়, আমিরাত এখন সরাসরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের জন্য লবিং করছে, যা এই কৌশলগত জলপথটি উন্মুক্ত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বৈধতা দেবে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মিত্র ইরানের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কের এই আমূল পরিবর্তনকে বিশেষজ্ঞরা একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত অবস্থান বদল হিসেবে দেখছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালীর কয়েকটি বিতর্কিত দ্বীপ পুনরুদ্ধারেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে আরব আমিরাত। বাহরাইন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে এই সংক্রান্ত একটি মার্কিন প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করছে, যার ওপর কাল বৃহস্পতিবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। গালফ অঞ্চলের দেশগুলো তাদের খাদ্য আমদানি এবং ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল রপ্তানির জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সৌদি আরবও তাদের ধৈর্য হারানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে গত বছর পুনঃস্থাপিত হওয়া কূটনৈতিক বিশ্বাসের জায়গাটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

যুদ্ধের এই আবহে আমিরাত সরকার ইতিমধ্যে ইরানি নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমিরেটস ও ইতিহাদের মতো বড় এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে যে গোল্ডেন ভিসা ধারী ব্যতীত কোনো ইরানি নাগরিক এখন থেকে আর আমিরাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। দুবাইয়ের দীর্ঘদিনের পরিচিত ইরানি হাসপাতাল এবং ইরানি ক্লাবগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে বেশ কয়েকটি আরব দেশ এখন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে আলোচনা করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে হরমোজ প্রণালী ঘিরে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here