প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে।’ গতকাল দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ’বিষয়ক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে ছুটির দিনেও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দুই দিন ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি সচিবালয়ে অফিস করেন। গতকাল তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেছেন তারেক রহমান। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এ সম্মানি কত টাকা তা নির্ধারণ করা হবে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে। তবে ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের পর কার্যালয় গেটে তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান। এ সময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল বিভিন্ন মসজিদে ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের প্রতি মাসে একটি সম্মানি ও উৎসবভাতা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতিমূলক কিছু কিছু জায়গায় ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনকে সম্মানি ভাতা দেওয়া শুরু করা হবে। এ ছাড়া বৈষম্যহীনভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ অন্যান্য বিষয়েও।’ মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপির একটি বড় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল-সারা দেশে মেধার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এবং বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা আরও দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কীভাবে আনব, তার মাধ্যমে আমাদের জনশক্তিকে কীভাবে কর্মক্ষম ও দ্রুততার সঙ্গে তাদের জন্য চাকরি এবং ব্যবসার সুব্যবস্থা করতে পারব, সে ক্ষেত্রে যে ডি-রেজল্যুশন প্রয়োজন, তার জন্য যে ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্পকারখানার নীতিমালা প্রয়োজন রয়েছে সেসব বিষয়ে সংস্কারের জন্য আলোচনা হয়েছে। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে আরও কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদেশে ও বাংলাদেশে যেসব দূতাবাস রয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে আমাদের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও যোগ্য করে বিদেশে পাঠাতে পারি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যে মন্ত্রী, সচিবগণ তাঁরা তাঁদের মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবায়ন শুরু হবে ইনশাল্লাহ।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী) বলেন, ‘আজ ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরোনো কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাঁদের কার্যক্রমের কর্মকৌশল নিয়েও আলোচনা করেছেন।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতে যান। কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কার্যালয়ের পুরোনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপণ করেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাতৃভাষা দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এ ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here