নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার অপরাধে, বাবার হাত থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামিকে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

রবিবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদলতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরী আমেনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে সোপর্দের পর ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার পুলিশ পরিদর্শক ওমর কাইয়ুম। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. মেহেদী হাসান আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে চাঞ্চল্যকর নৃশংস এই ঘটনায় আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, মামলার এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠকের বিচারক ও সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জনসহ ৭ আসামি গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পলাতক বাকী দুই আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া বলেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনো আইনজীবী আসামি পক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করবে। পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নরসিংদীর মাধবদীতে বাবাকে জিম্মি করে আমেনা নামে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সঙ্গীরা। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ সরিষা খেতে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় ধর্ষক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরাকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নামে মাধবদী থানায় মামলা করেন নিহতের মা ফাহিমা বেগম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here