তুষারাবৃত দুর্গম পাহাড়ি পথ। একদিকে ফেলে আসা যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রিয় জন্মভূমি, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে এভাবেই হাজার হাজার ইরানি এবং বিদেশি কর্মী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তুরস্কের ভ্যান প্রদেশের কাপিকয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছেন। যোগাযোগবিচ্ছিন্ন শহর, দীর্ঘ ট্রেন বা গাড়ির যাত্রা আর একরাশ ক্লান্তি নিয়ে সীমান্তে পৌঁছানো এসব মানুষের চোখেমুখে এখন কেবলই যুদ্ধের বিভীষিকা।

সীমান্ত পার হওয়া মিশরীয় শ্রমিক মোহাম্মদ ফৌজি জানান, গত তিন মাসে ইরানের শিল্পাঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নিজের দেশে ফেরার কোনো বিকল্প ছিল না তার কাছে। অন্যদিকে, তেহরান থেকে আসা ৬৩ বছর বয়সী জলিলেহ জাবারি তার মেয়ের কাছে ইস্তাম্বুলে আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন। যাওয়ার সময় ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি ভালো হয়, ইরানে শান্তি ফেরে, তবেই আমি আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসব।

 

তবে এই স্রোতের উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। অনেকে যখন প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন, অনেকে আবার পরিবারের টানে ফিরে যাচ্ছেন ইরানে। তেমনই একজন ৪৫ বছর বয়সী লায়লা। ইস্তাম্বুলে কর্মরত এই নারী তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সব ফেলে ফিরে যাচ্ছেন সিরাজ শহরে। অসুস্থ ভাই এবং পরিবারের পাশে থাকার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, বোমা থেকে হয়তো তাদের বাঁচাতে পারব না, কিন্তু অন্তত আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব। একা বিদেশে বসে উদ্বেগের চেয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকা অনেক বেশি স্বস্তির। যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, কাপিকয় সীমান্ত দিয়ে এই আসা-যাওয়ার মিছিল যেন ততই দীর্ঘ হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here