রাশিয়া-ইরানের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত ড্রোনের উন্নত রণকৌশল এখন ইরানকে শেখাচ্ছে মস্কো। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার জন্য রাশিয়া এই বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছে।
ইরানের নকশা করা এবং রাশিয়ার কারখানায় তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সাধারণ সহায়তা দিলেও এখন ড্রোন ব্যবহারের নির্দিষ্ট কৌশল (ট্যাকটিকস) শেয়ার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া সাধারণত ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে এবং বারবার গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে থাকে, ধারণা করা হচ্ছে এই পদ্ধতিই এখন ইরানকে শেখানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়া শুধু ড্রোন নয় বরং ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইরানকে সহযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইরানের এই ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনও বসে নেই। কিয়েভ ইতিমধ্যে তাদের ড্রোন বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে যাতে তারা স্বল্পমূল্যের ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধক প্রযুক্তি) ব্যবহার করে এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে।
একেকটি শাহেদ ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ হাজার ডলার হলেও ইউক্রেন মাত্র ৫ হাজার ডলার মূল্যের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন স্থাপন এবং মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের ওপর সমুদ্র-ড্রোন (সাধারণ মাছ ধরার নৌকার মাধ্যমে) হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা।
যদিও ইরান দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ আঘাত হেনেছে, তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতি চীনের ক্রমবর্ধমান সমর্থনকেও আশঙ্কাজনক হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা।
সূত্র: সিএনএন




