আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ইরান সীমান্তের কাছে দেশটির নাখচিভান অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। ইরানের দিক থেকেই ড্রোন এসেছে বলে দাবি করা হলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

বিবিসির খবর অনুসারে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এত দিন আজারবাইজানে কোনো হামলার খবর ছিল না। কিন্তু আমেরিকা–ইরান সংঘর্ষের ষষ্ঠ দিনে এই ঘটনা সামনে আসলো। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই প্রতিবেশী এই দেশে ড্রোন আঘাত হানলো।

 

খবরে বলা হয়েছে, দুপুরের দিকে ইরান সীমান্তের কাছে নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। এই ঘটনার পর আজারবাইজান সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানী বাকুতে থাকা ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলেছে।
তবে ইরান আজারবাইজানে ড্রোন হামলার তথ্য অস্বীকার করেছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, আজারবাইজানকে টার্গেট করার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে দেশটির সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা। ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত আজারবাইজান দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত।

২০০০ সালের পর থেকে আজারবাইজান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। আজারবাইজান ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্রের বড় ক্রেতা। অন্যদিকে ইসরায়েল আজারবাইজান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করে।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতাও রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে ইরানকে নজরদারির ক্ষেত্রে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আজারবাইজান তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে কার্যক্রম চালাতে সুযোগ দেয়। তেহরানের দাবি, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মোসাদের এজেন্টরা ইরানের কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানী হত্যার ঘটনাতেও জড়িত ছিল। তবে আজারবাইজান এসব অভিযোগ বরাবরই দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here